জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
বাংলাদেশে আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল বা ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বা জি-টু-জি কাঠামোর আওতায় চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন বা সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে এই চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসের বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
যে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে ড্রোনের একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা গড়ে তোলা এবং চীন থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল ড্রোন সংযোজনই করবে না বরং দীর্ঘমেয়াদে ড্রোন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।
এই প্রকল্পের আওতায় বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে মিডিয়াম অল্টিটিউড লো এনডুরেন্স এবং ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাটাগরির ড্রোন তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে। প্রযুক্তির এই বিশাল হস্তান্তর বাংলাদেশের শিল্প দক্ষতা উন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে যে এসব ড্রোন কেবল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক কাজেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এটি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সচিব ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এখন থেকে নিজস্ব নকশায় ড্রোন তৈরির পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন