রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আসিফ নজরুলের সম্পদ নিয়ে যা জানা গেল

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম

আসিফ নজরুলের সম্পদ নিয়ে যা জানা গেল

অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন যে সরকারে থাকাকালীন তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেননি। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও গুজবের কড়া জবাব দেন। ‍‍`আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?‍‍` শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন যে তার নামে বা তার পরিবারের নামে বিদেশে কোনো সম্পত্তি বা বাড়ি থাকার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে বছরখানেক আগে থেকে কিছু ইউটিউব চ্যানেলে রটানো হয়েছিল যে তিনি আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন এবং তার পরিবার সেখানে চলে গেছে। তিনি এই তথ্যকে সম্পূর্ণ গাঁজাখুরি খবর হিসেবে অভিহিত করেন। 

তিনি জানান যে আট মাস আগে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন আমেরিকায় তার বাড়ির প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। আজ পর্যন্ত কেউ এর কোনো দালিলিক প্রমাণ বা ঠিকানা দিতে পারেনি। তিনি দাবি করেন যে আমেরিকা তো দূরের কথা বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই তার কোনো সম্পত্তি নেই।

দুর্নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন যে সরকারে থাকা অবস্থায় তিনি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেননি এবং তার কোনো নতুন সম্পদও তৈরি হয়নি। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য তার জন্ম হয়নি। সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার পর কিছু অসাধু অনলাইন মাধ্যম ও বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার ও তার সহকর্মীদের নিয়ে এসব বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বজনপ্রীতি ও এলাকাপ্রীতির অভিযোগের বিষয়ে আসিফ নজরুল জানান যে তার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে তিনি বিন্দুমাত্র অনৈতিক সুবিধা দেননি। উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন যার মধ্যে একজনও তার আত্মীয় ছিলেন না। এমনকি আত্মীয়রা কখনো কারো পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি তার গ্রামের বাড়ি বা বেড়ে ওঠার এলাকায় একবারও যাননি যাতে এলাকাপ্রীতির কোনো প্রশ্ন না ওঠে। তবে তিনি লালবাগ শাহী মসজিদের উন্নয়ন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের সংস্কারে সরকারি নিয়ম মেনে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান।

পরিশেষে তিনি বলেন যে দীর্ঘ বিশ বছর ধরে তাকে নিয়ে নানা অপবাদ দেওয়া হলেও দিনশেষে সত্যই জয়ী হয়েছে। যারা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের সঙ্গে কোনো তর্কে জড়ানোর রুচি তার নেই। তিনি তার বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে বলেন যে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট এবং এসব জঘন্য মিথ্যাচার তাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। নিজের স্বচ্ছতা ও সততার প্রমাণ হিসেবে তিনি এই বক্তব্য রেকর্ড হিসেবে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।