শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতরা প্রতি মাসে সম্মানী পাবেন যত টাকা

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতরা প্রতি মাসে সম্মানী পাবেন যত টাকা

ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করেছে সরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হয়েছে। 

একই সঙ্গে দেশের ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, বিহারের অধ্যক্ষ ও যাজকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অংকের সম্মানী পাবেন। রবিবার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইমামরা প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় তথা মন্দিরের পুরোহিতরা পাঁচ হাজার টাকা এবং সেবায়েতরা তিন হাজার টাকা করে পাবেন। 

একইভাবে বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকেরা পাঁচ হাজার ও সহকারী যাজকেরা তিন হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী লাভ করবেন। মাসিক এই সম্মানীর পাশাপাশি বছরজুড়ে ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করতে উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এক হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা পাবেন।

সচিবালয়ের এই সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই মানবিক ও যুগান্তকারী কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। যদি দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার ও গির্জাকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সরকারের এই উদ্যোগকে ধর্মীয় নেতা ও আলেম ওলামারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, এর ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং তারা আরও নিবিড়ভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় সেবা প্রদানে উৎসাহিত হবেন।