মার্চ ২৫, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বুধবার সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী।বৈঠকের শুরুতেই মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে চলমান বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মিচেল লি।
সিঙ্গাপুরের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জানান যে চাঙ্গি বিমানবন্দরসহ তাদের দেশে বর্তমানে বেশ কিছু বড় অবকাঠামো এবং ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব বড় প্রকল্পে প্রচুর পরিমাণে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে যেখানে বাংলাদেশি কর্মীরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দক্ষ জনবল তৈরি এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
বৈঠকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা বিএসএফটিএ দ্রুত সম্পাদনের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বে টার্মিনাল প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ইচ্ছা জানানো হয়। প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন যে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুর বিশেষ করে ডিজিটাল সুশাসন এবং আইসিটি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
জ্বালানি খাতে বিশেষ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় বৈঠকে। সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি দল এই খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। সিঙ্গাপুর তাদের খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করতে বাংলাদেশ থেকে আম ও সামুদ্রিক খাবার আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এছাড়া পাট, সিরামিক এবং চামড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সফর বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তাদের স্বাগত জানান। সবশেষে এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা বা এফওসি আয়োজনের বিষয়টিকে তারা স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশ একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন