রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন ও সংহতি জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ১০:০০ এএম

বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন ও সংহতি জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতিসংঘে বাংলাদেশ

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রতি সংস্থার অবিচল সমর্থন ও গভীর সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই বার্তা দেন। বৈঠকে মহাসচিব বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে জাতিসংঘের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। 

বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ধারাবাহিক মানবিক নেতৃত্ব এবং উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক নানা সংকটের মাঝেও বাংলাদেশ যেভাবে বিশাল সংখ্যক শরণার্থীকে জায়গা করে দিয়েছে, তা বিশ্বের জন্য একটি উজ্জ্বল মানবিক উদাহরণ।

আলোচনা চলাকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মহাসচিবের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে চলমান আন্তর্জাতিক তেল সংকট এবং এর ফলে উন্নয়নশীল ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর যে অসম প্রভাব পড়ছেসে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের মতো ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ যেন এই বৈশ্বিক সংকট উত্তরণে এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়ে তিনি মহাসচিবের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।বৈঠকের একপর্যায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. খলিলুর রহমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। 

মহাসচিব এই আমন্ত্রণকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং এজন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় দেশটির ভূমিকা সবসময়ই বিশ্ব দরবারে প্রশংসনীয়। আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।