রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা, মিলবে ভর্তুকি-ঋণসহ ১০ সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

‘কৃষক কার্ড’ নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা, মিলবে ভর্তুকি-ঋণসহ ১০ সুবিধা

সুবিধা পাবেন কৃষকরা

দেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম ঘিরে সারা দেশের চাষিদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পরিবার ১০ ধরনের বহুমুখী সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। 

এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ এবং সেচ সুবিধা। আগামী পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। 

কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যে চার বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জের প্রবীণ কৃষক জয়নাল মিয়া এবং আব্দুল হাইয়ের মতো তৃণমূলের অনেক চাষি অতীতে সরকারি সুবিধা প্রাপ্তিতে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ ছিল যে স্থানীয় প্রভাবশালী বা জনপ্রতিনিধিদের ঘনিষ্ঠরা সুবিধা পেলেও প্রকৃত কৃষকরা বরাবরই অবহেলিত থেকেছেন। তবে এবার ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে সরাসরি কার্ডধারীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে তারা আনন্দিত। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে যে কৃষকের আয়, জমির মালিকানা এবং আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তাদের পাঁচটি আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের ১০টি উপজেলার ১০টি কৃষি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে এই কর্মসূচি যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয় তবে দেশের কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। 

বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন যে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষক কার্ড একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। তাঁর মতে এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এতে দেশ যেমন খাদ্যে স্বনির্ভর হবে তেমনই বিদেশে কৃষিপণ্য রপ্তানির পথ আরও প্রশস্ত হবে। স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রম এগিয়ে নিলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।