বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি

শিশুদের হামের টিকা

দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি বিশেষায়িত উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত এই এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। 

মূলত শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যেসব এলাকায় হামের ঝুঁকি বেশি পাওয়া গেছে, সেসব এলাকাকেই এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় থাকা ১৮টি জেলার মধ্যে রয়েছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ এবং চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর উপজেলা। 

এ ছাড়া পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু উপজেলার শিশুরা এই টিকা পাবে। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে ঢাকার নবাবগঞ্জ এবং গাজীপুর সদরকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর এবং মুন্সিগঞ্জের তিনটি উপজেলা—লৌহজং, সদর ও শ্রীনগরে এই কার্যক্রম চলবে।ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর উপজেলায় শিশুদের হামের টিকা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া নাটোর সদর এবং নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করবেন। 

পশ্চিমাঞ্চলের নওগাঁর পোরশা এবং সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট উপজেলায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলার পাশাপাশি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলাতেও এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, আপনার শিশু নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে থাকলে অবশ্যই নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। 

অনেক সময় অসচেতনতার কারণে শিশুরা এই গুরুত্বপূর্ণ টিকা থেকে বঞ্চিত হয়, যা পরবর্তী জীবনে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রোববারের এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন যাতে সুষ্ঠুভাবে ভ্যাকসিন প্রদান করা সম্ভব হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, টিকাদান কেন্দ্রে আসা শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।