রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তিন দেশ সফরে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

তিন দেশ সফরে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফর

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈশ্বিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিন দেশ সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। 

এই সফরটি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ সফরের প্রথম পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তুরস্কে অবস্থান করবেন। 

সেখানে তিনি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত পঞ্চম ‍‍`আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম‍‍`-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। এই ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও রাষ্ট্রনায়করা অংশ নেবেন, যেখানে সমসাময়িক ভূ-রাজনীতি ও সংকটের সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্ক সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে পারেন। এ ছাড়া এই সফরের ফাঁকে পাকিস্তান ও গাম্বিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে। এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন আদায় করা। এই মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হতে হলে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ক ছাড়াও বেলজিয়াম ও ইথিওপিয়ার ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় সফর করবেন। ১৯ এপ্রিল তুরস্ক সফর শেষে তিনি বেলজিয়ামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

সফরের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। এই দেশগুলোতে সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মূলত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রভাব বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঢাকার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই বড় মাপের কূটনৈতিক মিশন শুরু করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফর শেষে চলতি মাসের শেষ দিকে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।