এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:১০ এএম
বাংলাদেশ পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই অত্যন্ত সৎ এবং নিজেদের দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সোমবার মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালের ত্রৈমাসিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি স্পষ্টভাবে বলেন, অল্প কিছু সদস্যের অনিয়ম বা অপেশাদার আচরণ যেন পুরো বাহিনীর দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার জায়গাটি আরও কঠোর করা প্রয়োজন।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও পুলিশ সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বাহিনীর সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
এই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে প্রতিটি সদস্যকে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অপরাধ তদন্তে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে আলী হোসেন ফকির বলেন, দেশের অপরাধ দমনে এই বিভাগটি এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাচ্ছে।
তবে মামলার তদন্তে গতি আনা এবং গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে তিনি আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইজিপির মতে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমে এবং আইনের শাসনের প্রতিফলন ঘটে।মাদক ও সাইবার অপরাধের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের দমনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
অপরাধের মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য রেসপন্স টিমগুলোকে সবসময় প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। বাহিনীর প্রতিটি স্তরকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা গত তিন মাসের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিটি ইউনিটের চ্যালেঞ্জগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ফলোআপ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত ভুলের দায় কোনোভাবেই বাহিনীর ওপর বর্তাবে না এবং কোনো সদস্যের কারণে সুনাম নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন