এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
দেশে চাহিদামতো গ্যাস আমদানি করা সম্ভব না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ এলাকায় বাসিয়া নদী খনন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় খনিগুলো থেকে উত্তোলিত গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার ও কারিগরি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে। তবে সরকার বসে নেই, এই সংকট দ্রুত নিরসনে বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে এবং শিগগিরই নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তিনি জানান।জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডিজেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও এটি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। সরকারের নিজস্ব অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পথ পণ্য পরিবহন করে, তবে প্রতি কেজি পণ্যে পরিবহনের ব্যয় বাড়বে মাত্র ৩০ পয়সার মতো।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য থাকলেও সরকার চেষ্টা করছে সাধারণ মানুষের ওপর যেন এর চাপ সরাসরি না পড়ে।পরিদর্শনকালে বাসিয়া নদী খনন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য আর্শীবাদ হয়ে আসবে। নদীটি পুনরায় সচল হলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং ওই অঞ্চলের ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। কৃষির এই উন্নয়ন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অতীতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হচ্ছে। তবে জনগণের ভোগান্তি কমাতে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা সবাই মিলে বাসিয়া নদীর খনন কাজের অগ্রগতি ও স্থানীয় কৃষকদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন