মে ৮, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং এর অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দু’দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি চুক্তিতে সই করেন। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থপাচার বা মানি লন্ডারিং রোধে একে-অপরকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা দেবে।
চুক্তি অনুযায়ী মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা এবং পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে দুই দেশ নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে। এ ছাড়া মাদক পাচারকারী অপরাধী সংগঠন বা ডিটিওএস এবং মাদক লুকানোর নতুন কৌশল সম্পর্কেও নিয়মিত তথ্য বিনিময় হবে।চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর।
মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশনের’ মতো সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এ ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দুই দেশ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
চুক্তিতে আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দু’দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন