মে ১০, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্মিত কিন্তু অব্যবহৃত ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল একটি সংবাদপত্রে ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এর প্রেক্ষিতে রোববার (১০ মে) তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় আধুনিক ছয়টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হলেও তা বছরের পর বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন যেন দ্রুত এই ছয়টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সেবা চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী ২ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির সার্বিক প্রতিবেদন পেশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, বৈঠকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে আংশিক চালু থাকা এই ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য থমকে থাকা স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলো দ্রুত সচল করতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে এই হাসপাতালের কাজ দ্রুত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বৈঠকে জানান, উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে রংপুর বিভাগের প্রায় ২ কোটি মানুষের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে নীলফামারীর মৈত্রী হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটি একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। উত্তরাঞ্চলে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণকে তিনি একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠক শেষে সকল প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন