মে ১১, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের বেশ কিছু অমীমাংসিত দাবি পূরণের জোরালো আশ্বাস মিলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সভায় সভাপতিত্ব করেন যেখানে বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতি জটিলতা নিরসন এবং আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দীর্ঘ বছর একই পদে চাকরি শেষে পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যাওয়ার কষ্ট লাঘব করতে সরকার এখন অনারারি পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে দায়িত্ব পালন করলে পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাহিনীর তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সভার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের নানা সংকটের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে মামলার তদন্ত ব্যয় বৃদ্ধি এবং উপপরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যায় পর্যন্ত সদস্যদের জন্য যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে সুদমুক্ত মোটরসাইকেল ঋণের দাবি জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে এসব অভাব অভিযোগ শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে বিগত সময়ের শাসন ব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পুলিশকে একটি বিধিবিদ্ধ ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তারেক রহমান জানান যে পুলিশ প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয় বরং দেশের আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জানান যে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত সদস্যদের জন্য ওভারটাইম ভাতার একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া যারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পদের অভাবে পদোন্নতি পান না তাদের অবসরের ঠিক আগে সম্মানসূচক পদোন্নতি দেওয়া হবে। এতে করে কনস্টেবলরা অনারারি এএসআই এবং উপপরিদর্শকরা অনারারি ইন্সপেক্টর হিসেবে সম্মানজনকভাবে অবসরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাহিনীর আধুনিকায়নে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে নতুন ট্রেনিং একাডেমি স্থাপন এবং পুলিশ হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়েও সভায় একমত পোষণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে কঠোর নজর রাখার নির্দেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয় এই সভা থেকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন