রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৮, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ আমলের একটি বিতর্কিত ঘটনা আলোচনায় আনায় তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন এক আইনপ্রণেতা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। 

সে সময় তিনি মামুনুল হকের বর্তমান রাজনৈতিক বিবৃতির সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর অতীতের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনা টেনে আনেন। তবে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের তীব্র অনুরোধ ও আপত্তির মুখে সেই বক্তব্যটি সংসদের মূল কার্যবিবরণী থেকে সম্পূর্ণ এক্সপাঞ্জ বা বাদ ঘোষণা করেন স্পিকার।সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যটি কোনোভাবেই কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই বলে জানান স্পিকার।

সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বলেন যে একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ব্যক্তিগত অংশ এখানে আলোচিত হোক তা তিনি চান না। এর আগে খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বাজেট বক্তৃতায় অভিযোগ করেন যে মামুনুল হক বড় বড় কথা বলে বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি সাবেক এই হেফাজত নেতার অতীত অধ্যায় নিয়ে স্পিকারের কাছে মুতা বিয়ের আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা জানতে চান। সে সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীকে ইশারায় কিছু একটা বলতে দেখা গেলে আবু আশফাক দ্রুত তাঁর বক্তব্যের মূল ইস্যু পরিবর্তন করে ইসলামী ব্যাংকের সময় নষ্ট নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন যে মামুনুল হক সাহেবকে নিয়ে সংসদে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই ভুল এবং তাঁকে অতীতে কেবল রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল। সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয় তা কার্যবিবরণী হতে এক্সপাঞ্জ করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। 

স্পিকার তখন বলেন যে যার সংসদে এসে নিজের জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে এমন ব্যক্তিগত অভিযোগ তোলা আইনসভার নিয়ম বহির্ভূত। পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বিতর্কিত প্রসঙ্গটি থামানোর নির্দেশ দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে ইশারা করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং মুতা বিয়ে বর্তমান ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম বলে উল্লেখ করেন।