শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

অনলাইন জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন, খসড়া অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ১১:০১ এএম

অনলাইন জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন, খসড়া অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে প্রযুক্তিগত অপরাধ দমন এবং যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানত অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল হ্যাকিং প্রতিরোধ, উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং মাদক চোরাচালান রোধে আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবগুলো সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল।সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরন ডিজিটাল হওয়ায় রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে এই সময়োপযোগী আইনি সংশোধন অত্যন্ত জরুরি ছিল।বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পেশ করা জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যা মূলত ১৮৬৭ সালের পুরনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্টকে প্রতিস্থাপন করবে। 

বর্তমান সমাজে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটায় অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার কার্যক্রম আশঙ্কাজনকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। নতুন এই খসড়া আইনে জুয়া খেলা, জুয়ার স্থান, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ এবং ম্যাচ ফিক্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অপরাধের ধরণ বা প্রকৃতি বিবেচনা করে এতে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য লেজিসলে ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের সাপেক্ষে পাঠানো হয়েছে।

এর পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষায় বা জালিয়াতি চক্র রুখতে দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলার পর্যাপ্ত ধারা না থাকায় ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং করাকে এবার ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন শিরোনামে সম্পূর্ণ নতুন অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এই ধরণের অপরাধ বা কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সংঘটিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি করা কিংবা কোনো অপরাধী চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তির বিধান এই নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়াতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সভায় বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ে তা বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে পুরনো সেই আইনটি পরিবর্তন করে সেটিকে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন, আইন, কৃষি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন নতুন নতুন ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাদক পাচারের পরিবর্তিত ধরন এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক সংক্রান্ত প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রুখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস করা এবং বিচারিক কার্যক্রমে উদ্ভূত বাস্তব সমস্যাগুলো নিরসন করার লক্ষ্যেই এই নতুন আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকরের মাধ্যমে মাদক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় সাধন এবং মাদকদ্রব্য সহজে ও দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য ডগ স্কোয়াড বা বিশেষ কুকুর দল গঠনের বাধ্যতামূলক আইনি বিধান এই সংশোধনীতে সংযোজন করা হয়েছে।