রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের কড়া সতর্কবার্তা অধিদপ্তরের

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের কড়া সতর্কবার্তা অধিদপ্তরের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ জরুরি নির্দেশনা দেশজুড়ে পাঠানো হয়। সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দপ্তর ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে যেকোনো ধরণের কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে চরম কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে। 

দেশের কিছু শিক্ষক প্রতিনিয়ত চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করায় এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ।নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে নিয়মনীতি অমান্যকারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ২০১৯ সালের পরিমার্জিত নির্দেশিকা অনুসরণ করা সব সরকারি কর্মচারীদের জন্য সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে কিছু শিক্ষক বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে এমন কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ও আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করছেন যা সরাসরি প্রচলিত সরকারি নির্দেশিকার পরিপন্থী। এই ধরণের কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সুনাম ও সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অধিদপ্তর মনে করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা সরকারি চাকরির আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী সরাসরি গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আইনি শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত মনিটরিং কমিটিগুলোকে আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি বাধ্যতামূলক পর্যালোচনা সভা পরিচালনা করে শিক্ষকদের অনলাইন কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট মাসিক প্রতিবেদন দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এই বিশেষ চিঠিটি ইতিমধ্যেই দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে।