রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পর্যটন শিল্পের অনন্য আয়োজন হারমোনি ফেস্টিভ্যাল : পর্যটনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২০, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

পর্যটন শিল্পের অনন্য আয়োজন হারমোনি ফেস্টিভ্যাল : পর্যটনমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় আসর শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

দেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী বলেন যে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে এই উৎসব এক অনন্য ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের যে বিশেষ অঙ্গীকার করা হয়েছিল, এই উৎসব তারই অংশ। পাহাড়, সবুজ চা-বাগান এবং দেশের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে এই আয়োজন এবার জীবন্ত রূপ পেয়েছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুসহ পর্যটন এলাকার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত উপস্থাপন করার আশ্বাস দেন তিনি।পর্যটন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যটন মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। 

এ ছাড়া মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা উপস্থিত ছিলেন। উৎসবের স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ।শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মোট ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এই আনন্দঘন উৎসবে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। 

তাঁরা নিজস্ব সংস্কৃতি, জীবনধারা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প এবং দেশীয় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন লোকজ খাদ্যের পসরা সাজিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরছেন। আগামী রোববার পর্যন্ত চলমান এই উৎসবে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।