জুন ২২, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর শেষে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই অগ্রগতির রূপরেখা তৈরি করা হয়।সফর শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো বিশ্বনেতাহেদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সংক্ষিপ্ত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও তিনি এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিলিত হন।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, শিক্ষা ও শ্রমিক কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সম্মতিতে ৩৩টি পয়েন্টের একটি বিশদ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
কম খরচে, অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নিরাপদ কর্মপরিবশে নিশ্চিত করে আরও বেশি জনশক্তি রপ্তানির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় বৈধতা দেওয়া অথবা প্রয়োজনে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যৌথ গবেষণা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে। সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে বাংলাদেশ। আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে ঢাকার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কুয়ালালামপুর পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
এই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এক্সচেঞ্জ অব নোটস বিনিময় করা হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্টের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পন্ন করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন