জুন ২২, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর শেষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শ্রমবাজারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতির মজবুত ভিত্তি তৈরি করা হয়।সফর শেষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো বিশ্বনেতাদের অন্যতম ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো আনোয়ার ইব্রাহিম। সেই বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও বিশেষ গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও তাঁর এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সফল আলোচনার পর রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর খাত, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছ।
বিশেষ করে হালাল শিল্পের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশে উৎপাদন ও সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় কম খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় বৈধতার আওতায় আনা অথবা প্রয়োজন সাপেক্ষে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা জোরদারেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারিত্ব ও যৌথ গবেষণা সম্প্রসারণে দুই দেশ একমত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও যৌথ সহযোগিতার সিদ্ধান্ত হয়। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুটি দ্বিপাক্ষিক নোট বিনিময় করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন