জুন ২৬, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় নিতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়।বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এসব স্মারক সই হয়। সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সই করেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে দুই নেতা সম্মত হন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতা সংক্রান্ত যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে চীনের মূল্যবান সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া বহুপক্ষীয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বেইজিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে ঢাকা আগ্রহী বলে তিনি জানান।
এদিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা আরো সুদৃঢ় করতে এবং দুই দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি কল্যাণ নিশ্চিত করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নপথ অনুসরণ এবং নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমে চীন দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানির পাশাপাশি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ উদীয়মান খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক থেকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, সই হওয়া ১৩টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে পরিবেশবান্ধব সবুজ উন্নয়ন, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, কনসেশনাল লোনের সুদের হার কমানো এবং গ্রেস পিরিয়ড বৃদ্ধির বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানি, স্কুল কারিকুলামে চীনা ভাষা ম্যান্ডারিন অন্তর্ভুক্ত করা, কারিগরি শিক্ষা, মিডিয়া কোলাবোরেশন এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মোংলায় নতুন চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
এর আগে গতকাল বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন তিয়াওইউথাই-এ চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন