রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ তৈরি করতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ তৈরি করতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ বা বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাষ্ট্রকে গ্রাস করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বদা সজাগ রয়েছে।ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার বরদাশত করা হবে না।

শুক্রবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ দলীয় বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায়, তবে বুঝতে হবে সে মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর সঙ্গে সরাসরি বিরোধিতা করছে।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা বা আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন সর্বদা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়, আর রাজনীতির মূল চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। তিনি আরও যোগ করেন যে রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়, এবং রাজনৈতিক দল বা নেতারা কেউ দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজেদের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণই তা টিকে থাকবে; অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সামাজিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ধর্ম চর্চাকারীদের অবশ্যই ধর্মব্যবসায়ীদের চিনে নিতে হবে। যার যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা গড়ে ওঠে। যখনই কোনো কুচক্রীমহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

সব মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি করতে পারে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই মূলনীতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা। এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বেলুন ও শান্তিরপ্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।