আগস্ট ৭, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা সরাসরি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর কেন্দ্রীয়ভাবে বা সদর দপ্তরে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের দ্বাদশ সভা শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের অনুমোদিত পাবলিক পরীক্ষার মূল সনদের ভিত্তিতে নিজ নিজ এলাকার মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারাই এখন থেকে বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা মাইগ্রেশন প্রক্রিয়াও পুরোপুরি অনলাইনে সম্পন্ন করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর পর কার্ড নবায়নের আইনি বিধান কার্যকর রাখতে আবেদনকারীর মা-বাবা ও ভাই-বোনের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত `ফ্যামিলি ট্রি` বা পারিবারিক তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাতীয় ডাটাবেজে তথ্য যাচাই নির্ভুল করার পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি অনলাইনে আপলোড করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন এই নিয়মাবলি কার্যকর হলে দেশ ও প্রবাসের লাখ লাখ নাগরিক সহজে এবং দ্রুত তাদের এনআইডি সংক্রান্ত কাঙ্ক্ষিত সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশনের এই যুগোপযোগী উদ্যোগ সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন