সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
দেশে চলমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার বহুমুখী জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। সোমবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে সংকট কাটাতে দেশে মোট দেড়শতটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ও সঞ্চালন লাইনের দিকে নজর না দেওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রতিমন্ত্রী জানান যে স্থলভাগের গ্যাস উত্তোলনে ইতোমধ্যে তিনটি কূপ খনন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং আরও ত্রিশটি কূপ খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার জন্য পূর্ববর্তী সরকার কোনো পাইপলাইন তৈরি করেনি উল্লেখ করে তিনি জানান যে বর্তমান প্রশাসন পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এছাড়া সমুদ্রবক্ষে থাকা গ্যাস সম্পদ আহরণের জন্য নতুন করে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় খননযন্ত্র সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার দশ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
জ্বালানি তেলের বর্তমান দেড় মাসের মজুদ বৃদ্ধি করে তিন মাসে উন্নীত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ছয় মাসে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আমদানি নির্ভরতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ খনিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন