বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতি জোরদার করছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতি জোরদার করছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

বিগত সরকারের অকার্যকর ও লোকদেখানো কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় এর স্থায়ী সমাধানও দেশটির অভ্যন্তরেই নিহিত রয়েছে। সংকটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে আলোচনা জোরালো করা হচ্ছে এবং প্রচলিত কূটনীতির বাইরেও বিকল্প কূটনৈতিক পথ অনুসরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সমস্যাটির কার্যকর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশি তম অধিবেশনে বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করবে, যেখানে সরকারপ্রধান মূল বক্তা হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করবেন। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রূপরেখা স্পষ্ট করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তরিক। সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং বৈধ পথে বাণিজ্য সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের অপচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে নিয়মিত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কূটনীতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদেশের মিশনগুলো নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। 

সরকারের মধ্যমেয়াদি কৌশল অনুসারে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের দুই দশমিক সাত শতাংশে এবং সার্বিক বিনিয়োগকে চল্লিশ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের তেষট্টিটি দেশে বাংলাদেশের ছিয়াশিটি কূটনৈতিক মিশন দায়িত্ব পালন করছে এবং মিশনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনি সুরক্ষার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে দশ হাজার ছেষট্টি জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী রয়েছেন এবং স্থানীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি খাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট একের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন অংশীদার রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যালোচনা চলছে।