সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় দশ হাজার ছেষট্টি জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলের একজন সদস্যের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের লিখিত জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে কারাবন্দি এসব নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আইনি সুরক্ষা ও কনস্যুলার সেবা প্রদানে বাংলাদেশ মিশনগুলো নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আটকের তথ্য প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস দ্রুত কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। এরপর আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো বন্দির নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে মিশনের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এছাড়া বন্দিদের পরিবার আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে মিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। কারাদণ্ড ভোগকারী কোনো নাগরিকের জরিমানা পরিশোধের প্রয়োজন হলে পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয় এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বিমান টিকিটের বন্দোবস্ত করা হয়। পরিবার খরচ বহনে অক্ষম হলে সরকারি অর্থে সেই ব্যয় বহন করা হয় এবং দ্রুত ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য এবং মিয়ানমারে আটক নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া আরও সুগম করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন