সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি অনলাইনভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান। তাঁর মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ছিল না; বরং নিছক কৌতুক বা মজা করার লক্ষ্যেই প্রাণীটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
প্রাণীটি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর শিশুকন্যা মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিল। আলোচনায় আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে স্থানান্তরের পর একাকী পরিবেশে সাড়ে নয় বছর বয়সী কন্যার মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রাণীটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। পোষা প্রাণীটির সঙ্গে মেয়েটির গভীর মানসিক সংযুক্তি তৈরি হয়। কিন্তু প্রাণীটি চুরির পর শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় দেড় দিন কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারেনি। এমনকি নির্মমভাবে জবাই করার সত্যতাও মেয়ের কাছে গোপন রেখে দরজা খোলা পেয়ে পালিয়ে গেছে বলে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছিল।
সরকারি বাসভবন থেকে প্রাণীটি চুরির প্রক্রিয়ার নির্মমতার কথা তুলে ধরে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রাণীটি জবাই করার সময় যে নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটিকে নিছক কৌতুকের ছলে ঘটিয়েছিলেন বলেই তিনি মনে করেন।
একই সঙ্গে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কোনো দূরত্ব বা বিরোধের অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, আখতার হোসেন ও মাহফুজ আলমের মতো ছাত্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক পরবর্তী সময়েও বজায় ছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন