সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ও বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে বাহিনীর নিজস্ব বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিক সরঞ্জাম দিয়েই এই বিশেষ ইউনিটের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে মাঠের চাহিদা ও কাজের পরিধি বিবেচনা করে ইউনিটটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-৩ শাখা থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় এই বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ইউনিটটি গঠনের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়। চিঠির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের বর্তমান জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর নীতিগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষ এই ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, ভবিষ্যৎ নতুন অনুমোদিত পদের সংখ্যা, প্রয়োজনীয় সরকারি যানবাহন ও অন্যান্য লজিস্টিকস বরাদ্দের তালিকা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। এজন্য প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টি এবং যানবাহন সাংগঠনিক কাঠামো ও সরঞ্জামাদিভুক্তকরণ বা টিওঅ্যান্ডই অন্তর্ভুক্তির জন্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে পুলিশ সদর দপ্তরকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত, ডিজিটাল সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং জটিল ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজগুলো পুলিশের বিভিন্ন শাখায় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উইং পৃথকভাবে এসব সাইবার মামলার তদন্ত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের মাধ্যমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে একটি স্থায়ী, সমন্বিত ও আধুনিক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে সাইবার অপরাধের ধরনেও নানা জটিল পরিবর্তন এসেছে। সাইবার অপরাধীদের শনাক্তকরণ, আইনের আওতায় আনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উচ্চতর প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা প্রয়োজন। সেজন্য বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সাইবার বিশেষজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের বাছাই করে এই নতুন ইউনিটে সংযুক্ত করা হবে।
বিদ্যমান কাঠামোর ভিত্তি থেকেই নতুন ইউনিট গড়ে উঠছে। বর্তমানে সিআইডির অধীনে একটি সাইবার পুলিশ সেন্টার এবং আলাদা ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগ সক্রিয় রয়েছে। পুলিশের নিজস্ব তথ্যানুযায়ী, এই ফরেনসিক বিভাগের আওতায় ডিজিটাল তদন্ত ও ফরেনসিক বিষয়ক নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে থাকে। সিআইডির বর্তমান পদবিন্যাসে উপমহাপরিদর্শক বা ডিআইজি মর্যাদার একটি পদও রয়েছে। ফলে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা একেবারে শূন্য থেকে তৈরি করতে হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান কারিগরি অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ভেতরেও সাইবার অপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। ফলে নতুন স্বতন্ত্র ইউনিটটি পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যমান অন্যান্য ইউনিটের দায়িত্ব, আইনগত এখতিয়ার এবং জনবলের পুনর্বিন্যাস করা হবে। মন্ত্রণালয়ের ২১ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে এই পুনর্বিন্যাস বা সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে এখনো বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ইউনিট গঠনের পর সিআইডি কিংবা ডিএমপির বর্তমান উইংগুলোর সাথে এর সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত হবে, কোন ধরনের জটিল মামলা এই বিশেষ ইউনিট সরাসরি গ্রহণ করবে এবং মাঠপর্যায়ে জেলা পুলিশ বা স্থানীয় থানার ভূমিকা কী হবে—এসব বিষয় পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো পরবর্তী সাংগঠনিক প্রস্তাবে স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তানভীর-আল-নাসীফ জানান, পুলিশের স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট গঠনের সার্বিক প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলেছে। বাহিনীর বর্তমান জনবল ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ভেতরেই দ্রুততম সময়ে ইউনিটটির কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে এবং পুলিশের প্রস্তাবিত খসড়া কাঠামো প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে কাজ চলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন