রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কৃষকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

কৃষকরা দেশের আসল শ্রেষ্ঠ মানুষ বললেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

কৃষকরা দেশের আসল শ্রেষ্ঠ মানুষ বললেন রাষ্ট্রপতি

কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি জানাতে শিগগিরই রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং দেশ গড়ার মূল যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। কৃষকদের দুর্নীতিমুক্ত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কৃষকদের ঘাম, পরিশ্রম এবং উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং উৎপাদিত শস্য যাতে সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও সজাগ ও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, সরকার কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও কৃষক উন্নয়নে একটি নতুন স্কিমে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।

কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন ও শওকত আলম।

প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ, জাতীয় কৃষক দিবস উদযাপন, শস্য বীমা চালু, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং সুলভ মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহের মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে।

বিদেশে দেশীয় কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিপুল চাহিদার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, প্রক্রিয়াজাত কারখানা তৈরি এবং খামারে সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। বেসরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া চড়া সুদের কৃষিঋণের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে সত্তরোর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা ও আধুনিক কৃষিপণ্য মেলার আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হলে রাষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতির সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।