রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বাসযোগ্য নগর পরিকল্পনা

ঢাকার পাঁচ নদী ও ৫৫ খাল সচল করতে বড় উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ঢাকার পাঁচ নদী ও ৫৫ খাল সচল করতে বড় উদ্যোগ

ছবি :সংগ্রহীত

ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদী এবং দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৫৫টি খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পানিপ্রবাহ সচল, পাড় সংরক্ষণ ও নৌযান চলাচলের উপযোগী করার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সাথে খালের উভয় পাড়ে গাইডওয়াল ও রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই এই সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ত্রিমোহনী খাল ব্রিজে খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পের আওতাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিরানি খাল পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার অংশ হিসেবে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের মতো সচল করে আবারও নৌযান চলাচলের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খাল পরিষ্কার করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। শহরের স্যুয়ারেজ লাইনগুলো নগরের বাইরে সরিয়ে নিয়ে দাসেরকান্দি, পাগলা, মিরপুর, উত্তরা ও রায়েরবাজার-মাদানীসহ নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য পরিশোধনাগার বা এসটিপির মাধ্যমে শোধন করে তবেই নদীতে ফেলা হবে। এ লক্ষ্যে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি গত তিন মাস ধরে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাত থেকে আটটি বৈঠকের মাধ্যমে রূপরেখা উপস্থাপন করেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতিমধ্যে স্টিমার ও ফেরিতে করে ঢাকার চারপাশের নদী পরিদর্শন করে মাঠপর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিত করেছে।

সরকারের উন্নয়ন দর্শন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অতীতের মতো মুখরোচকভাবে ঢাকাকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা সিঙ্গাপুর বানানোর অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেবে না। বরং নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এদিন মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর—এই চারটি খালের চলমান কাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন যাতে শুষ্ক মৌসুমেই সংস্কারের সুফল নগরবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়। ত্রিমোহনী এলাকার বাঁশের সাঁকোটি দ্রুত সময়ের মধ্যে আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ঢাকায় কোনো বাঁশের সাঁকো রাখা হবে না এবং সব ধরনের অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর অভিযান চলবে।

নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা ভোটের ভাবনা বাদ দিয়ে কেবল ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সাত মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকারের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরণে অগ্রগতি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে সেখানে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে আগামী পাঁচ বছর মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চায় সরকার। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, ঢাকা মহানগরে প্রায় তিন কোটি মানুষের বাস হওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নদী-খালের পাড় বাঁধাই, সৌন্দর্যবর্ধন এবং গৃহস্থালি ও কঠিন বর্জ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরিশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই নগরবাসী এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা খালগুলো দখল করেছে, তাদের একমাত্র পরিচয় তারা অবৈধ দখলদার। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাদের উচ্ছেদ করা হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব বাঁশের সাঁকো ভেঙে আরসিসি সেতু নির্মাণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।