রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৫, ০৫:৪৬ পিএম

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

ছবি - সংগৃহীত

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তির দিকে পৌঁছেছে। বিজয়া দশমীর দিনে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন নদী ও পুকুরে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে। এই বিসর্জন মানে শুধু দেবীকে বিদায় জানানো নয়, বরং এক বছর পর আবারও মায়ের ফিরে আসার জন্য অধীর অপেক্ষা করা।বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

তারা দেবীর পায়ে অঞ্জলি অর্পণ করে বিজয়ার জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর এক শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের মন থেকে আসুরিক প্রবৃত্তি যেমন কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা দূর করাই বিজয়া দশমীর প্রধান তাৎপর্য। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সাধন করে।

পুরান ঢাকার লক্ষীবাজার থেকে আগত নবনীতা বর্মণ বলেন, "এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছরের অপেক্ষা।" তিনি দেশ ও সবার জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেছেন।ধানমন্ডি থানার পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন,

"মা আমাদের ধরাধামে এসেছিলেন আমাদের মঙ্গলের জন্য, অসুর বধ করার জন্য।" তিনি মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন, যাতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে।এবারের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। রাজধানীতে প্রায় ২৫৪টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর ১০টি ঘাটে।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে থাকছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির প্রায় ৭ হাজার সদস্য।

পাশাপাশি নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে টহল দিচ্ছে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড।সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হবে বিনাস্মৃতি স্নান, ওয়াইস ও নবাববাড়ি ঘাটে। এছাড়া লালকুটি, মিলব্যারাক, পোস্তগোলা শ্মশান, বসিলা ব্রিজ, আমিনবাজার ও আশুলিয়ার ধউরে বিআইডব্লিউটিসি ফেরিঘাটেও বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে।