রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েই কাজ করছে: আইন উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০২:১৫ পিএম

সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েই কাজ করছে: আইন উপদেষ্টা

ছবি - সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার, ২২ অক্টোবর, বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে এক মতবিনিময়কালে তিনি এই দাবি করেন। এমন এক সময়ে তিনি সরকারের নিরপেক্ষতার পক্ষে এই অবস্থান ব্যক্ত করলেন,

যখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাকে একটি নির্দলীয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে দেখতে চাইছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। আইন উপদেষ্টা অবশ্য বিএনপির এই চাওয়াকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সরকার এরই মধ্যে দলগুলোর কাঙ্ক্ষিত সেই নিরপেক্ষ আচরণই প্রদর্শন করছে।

বিএনপির সাম্প্রতিক দাবিগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিএনপি প্রকৃতপক্ষে নতুন করে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ চায়নি। বরং তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকেই একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ আচরণ আশা করেছে। আইন উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার ঠিক সেই অনুযায়ী অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবেই কাজ করে যাচ্ছে।

তার এই বক্তব্য মূলত গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই “এখনই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিতে হবে।”

তিনি নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে জনগণকে আশ্বস্ত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব সরকারের মধ্যে যদি কোনো ‘দলীয় ব্যক্তি’ থেকে থাকেন, তবে তাদের অপসারণের জন্যও জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন সুস্পষ্ট দাবি আসার চব্বিশ ঘণ্টা পার না হতেই আইন উপদেষ্টা সরকারের নিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করলেন।

তবে মতবিনিময়কালে ড. আসিফ নজরুল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ‘অনৈক্যের’ কারণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। এই অনৈক্য বলতে তিনি দৃশ্যত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলমান মতপার্থক্য ও টানাপোড়েনকেই বুঝিয়েছেন।

তবে আইন উপদেষ্টা এই সংশয় কেটে যাওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে ও সকলের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া যায়, তবে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট এই ধোঁয়াশা বা সংশয় কেটে যাবে। এই সনদকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির আলোচনা ও দরকষাকষি চলছে।

এদিকে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রশাসনের সব কার্যক্রম এখন থেকে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন পর্যবেক্ষণমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা এলো। এটিকে মাঠ প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার একটি জোরালো বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার বিষয়েও কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। তিনি এই প্রক্রিয়ায় সেনাপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাকে ‘প্রশংসনীয়’ বলে অভিহিত করেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সেনানিবাসের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় বা ‘সাবজেলে’ রাখার বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পূর্ণ এখতিয়ারভুক্ত বিষয় বলে উল্লেখ করেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ওই বিষয়টি নিয়ে আইন উপদেষ্টা হিসেবে তার মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই যে এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ, তা আইন উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।