রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ডিম-মাংসের দাম কমানো সম্ভব নয়: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম

ডিম-মাংসের দাম কমানো সম্ভব নয়: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

ছবি - সংগৃহীত

দেশে ডিম ও মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে যখন সাধারণ ভোক্তারা চাপে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুটি অত্যাবশ্যকীয় আমিষের দাম কমানো সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে পশুখাদ্যের অনিয়ন্ত্রিত বাজারকে দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পশুখাদ্যের দাম কমাতে না পারলে কোনোভাবেই ডিম ও মাংসের দাম কমানো সম্ভব হবে না।

শুধু তাই নয়, এই জটিল পরিস্থিতিতে খামারিরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বুধবার, ২২ অক্টোবর, দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) আয়োজিত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার পশুখাদ্যের বাজারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশে পশু খাদ্যের দাম বর্তমানে কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে। এর পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কিছু কিছু বড় কোম্পানি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণহীন কার্যক্রমের কারণেই পশুখাদ্যের দাম সাধারণ খামারিদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

আবার সেই বাড়তি খরচের বোঝাই শেষ পর্যন্ত স্থানান্তরিত হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। এই চক্র ভাঙার জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি যে, পশু খাদ্যের দাম কীভাবে কমানো যায় এবং একই সঙ্গে সেই খাদ্য যেন নিরাপদ ও মানসম্মত থাকে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলেই কেবল ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এদিন সাভারে বিএলআরআইয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান বিএলআরআইয়ের চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম এবং আয়োজিত কর্মশালার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

কর্মশালায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারি পর্যায়ে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে নিরন্তর গবেষণা চলছে। তারা আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে বিএলআরআই কাজ করে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি ও খামারিদের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় মোট ছয়টি টেকনিক্যাল সেশনে ৩০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে এবং আগামী ২৩ অক্টোবর বিশেষজ্ঞ সুপারিশ পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি শেষ হবে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাণী ও পোলট্রি উৎপাদন বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা এবং বিএলআরআই-এর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডিম ও মাংসের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা হিসেবে ফরিদা আখতার সামুদ্রিক সম্পদ নিয়েও কথা বলেন।

বর্তমানে বাংলাদেশে মা ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময় চলছে। এই সময়ে বাংলাদেশের নদী ও সাগর থেকে ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘অন্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার এই মন্তব্য দুই দেশের জেলেদের মধ্যেকার সীমান্ত বিরোধ এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার বিষয়টিকেও আলোচনায় নিয়ে আসে।

তবে দিনশেষে সাধারণ মানুষের মূল আগ্রহ ছিল ডিম ও মাংসের দাম কমার কোনো সুখবর আছে কিনা, সেদিকেই। কিন্তু উপদেষ্টার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, পশুখাদ্যের বাজারের সিন্ডিকেট বা নিয়ন্ত্রণহীনতা ভাঙতে না পারলে এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি মিলছে না।