সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন আফতাব হোসেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম

পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন আফতাব হোসেন

ছবি - সংগৃহীত

দেশের জনপ্রশাসনের সংস্কার ও মেধাভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি)-কে আরও শক্তিশালী করা হলো। সংস্থাটির নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পিএসসির মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯ জনে। দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেক্ষাপটে একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠনের যে দাবি উঠেছে, সেই গুরুদায়িত্ব পালনে পূর্ণাঙ্গ কমিশন নিয়ে পিএসসি কাজ চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি এর সাংবিধানিক গুরুত্ব বহন করে।

পিএসসি একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সদস্যদের শপথ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক পরিচালিত হয়, যা এই পদের মর্যাদা ও দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন সদস্যকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম, কমিশনের জ্যেষ্ঠ সদস্য অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, পিএসসি কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং সুপ্রীম কোর্ট ও পিএসসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের উপস্থিতি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও গাম্ভীর্যকে পূর্ণতা দেয়। নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তির ফলে পিএসসির ১৯ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিশন এখন প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা নিয়োগের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় আরও গতিশীল ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোতে ফিরিয়ে আনা।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম ও প্রধান ধাপ হলো বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশনের মাধ্যমে বিসিএসসহ সকল ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। পিএসসির ওপর এই বিশাল দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক কমিশনে যোগ দিলেন।

তার অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব কমিশনের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে এবং একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯ সদস্যের এই কমিশন এখন দেশের সিভিল সার্ভিসে নতুন রক্ত সঞ্চালনের পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও শৃঙ্খলামূলক বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতেও পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে পারবে।