অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১১:২৪ পিএম
দেশের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলায় অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে যেভাবে এই সেনা সদস্যদের আদালতে আনা হয়েছে, তা ‘অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার’।
বুধবার, ২২ অক্টোবর, সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা এই ইতিবাচক মন্তব্য করেন। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আইনের শাসনের আওতায় আনার যে প্রক্রিয়া চলছে, এই ঘটনাকে সেই প্রক্রিয়ার একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবেই দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার সকালে চাঞ্চল্যকর একটি মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে সাংবাদিকরা আইন উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করেন। বিশেষ করে, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ‘সাবজেলে’ রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়টিকে সরকার কীভাবে দেখছে এবং তাদের জন্য আলাদা সাব-জেলের প্রয়োজন হলো কেন—এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
এই প্রশ্নের জবাবেই ড. আসিফ নজরুল পুরো প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে সেনা সদস্যরা যেভাবে এসেছেন, ওনাদের যেভাবে নিয়ে আসা হয়েছে, সেনা প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সেনাবাহিনীর প্রধান যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, এটা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার।’
আইন উপদেষ্টা তার মন্তব্যে আরও যোগ করেন, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তারা এবং সর্বোপরি সেনাবাহিনী আইনের শাসনের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, তা অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘তারা আইনের শাসনের প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন, সেটা আমরা খুব পজিটিভলি (ইতিবাচকভাবে) দেখছি।’ ড. আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, দেশের ইতিহাসে অতীতে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাধার নজির দেখা গেলেও, এবার একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সেনাবাহিনীর এমন পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতাকে নতুন সরকারের অধীনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠানই এখন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।
তবে, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য ‘সাব-জেল’ বা বিশেষ কারাগারের ব্যবস্থা করা প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টিকে তার এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সাব-জেলে কেন রাখা হয়েছে, ওনাদের (সেনা সদস্য) কোথায় রাখা হবে, এটা সম্পূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভুক্ত বিষয়।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং কারাগার সংক্রান্ত যাবতীয় বিধিবিধান পর্যালোচনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
তিনি বলেন, ‘যেটা যথোপযুক্ত মনে করবেন, ওনারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) করবেন। এর জবাব দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্বের যে সুস্পষ্ট বিভাজন রয়েছে, সেটিরও ইঙ্গিত দেন। সব মিলিয়ে, আইন উপদেষ্টার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, সরকার অভিযুক্তদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সন্তুষ্ট এবং এই প্রক্রিয়াটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন