সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ইসিকে বিএনপির ৩৬ দফা প্রস্তাব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ইসিকে বিএনপির ৩৬ দফা প্রস্তাব

ছবি - সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সুনির্দিষ্ট ৩৬ দফা লিখিত প্রস্তাব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে জমা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে দলটি বিগত নির্বাচনগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ‘বিতর্কিত’ কর্মকর্তাদের আসন্ন নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা এবং ইসলামী ব্যাংকের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে সেগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব না দেওয়াসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দাবি উত্থাপন করেছে। তবে বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এদিন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে আলোচনায় বসে। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে।

বৈঠক শেষে ড. আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা মানুষের মনে রয়েছে, তা দ্রুতই কেটে যাবে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ব্যক্তিগত বা দলীয় কোনো স্বার্থ নিয়ে এখানে আলোচনা করতে আসিনি। আমরা এসেছি জাতির স্বার্থে আলোচনা করতে। আমরা একটা পরিবর্তন চাই, যে পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের জনগণ নির্ভয়ে চলতে পারবে, নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বিগত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে, বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলো নির্বাচনের নামে প্রহসন ছিল। দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আমরা নির্বাচন কমিশনকে সেইসব প্রহসনের বিষয়ে সতর্ক করেছি এবং অনুরোধ জানিয়েছি, ওই সব নির্বাচনে যাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা বিতর্কের অভিযোগ ছিল, তাদের যেন কোনোভাবেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে না রাখা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থেই এই বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখতে হবে বলে বিএনপি মনে করে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে সিইসির কাছে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে করণীয় প্রস্তাবসমূহ’ শীর্ষক একটি কার্যপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মোট ৩৬টি প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবনার একটি উল্লেখযোগ্য ও স্পর্শকাতর অংশে বলা হয়েছে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা পোলিং পারসোন্যাল, অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘দলীয় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত এমন সব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ প্রদান করা যাবে না।

বিএনপি এই তালিকায় উদাহরণ হিসেবে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংকে সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে এবং এসব শূন্য পদে তড়িঘড়ি করে দলীয় লোকজন নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে।’

বৈঠকের এই বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া গেলেও, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ড. আবদুল মঈন খান একপর্যায়ে দাবি করেন যে, তারা নির্বাচন কমিশনকে কোনো ‘লিখিত প্রস্তাব’ দেননি। যদিও এই দাবি করার সময় বিএনপির এই নেতার হাতেই ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে করণীয় প্রস্তাবসমূহ নির্বাচন কমিশনের সহিত সভার জন্য প্রস্তাবিত কার্যপত্র’ শীর্ষক একটি মুদ্রিত দলিল বা ফাইল দেখা যায়। বিএনপির প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এই লিখিত প্রস্তাব দেওয়া এবং পরক্ষণেই তা অস্বীকার করার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি হয়তো তাদের স্পর্শকাতর দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, কিন্তু কৌশলগত কারণে এখনই তা জনসমক্ষে পুরোপুরি স্বীকার করতে চাইছে না। তবে কারণ যা-ই হোক, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ প্রক্রিয়ায় বিএনপির এই ৩৬ দফা প্রস্তাব নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।