অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম
বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের মধ্যেই দেশের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো আলোচনায় স্থান পায়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ যখন একটি নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে, তখন এই বৈঠককে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সহযোগিতার জন্য আইজিপির কাছে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। জবাবে আইজিপি বাহারুল আলম রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসসহ অন্যান্য সকল বিদেশি সংস্থা ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। দুই পক্ষের আলোচনায় এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ পুলিশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আইজিপি বাহারুল আলম মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছে। সেই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে সন্ত্রাস দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং তদন্ত কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন এই বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে আইজিপি বাহারুল আলম জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে এবং পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। আইজিপির এই বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সময়ে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের একটি জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আইজিপি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে চলমান সহযোগিতারই একটি অংশ। বিশেষ করে, একটি পরিবর্তনকালীন সরকারের অধীনে দেশ যখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,
তখন প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে মার্কিন দূতের এই সাক্ষাৎ এবং নির্বাচন নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি একই সঙ্গে প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন