শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারত এতো চেষ্টা করেও হেজেমনিক রাষ্ট্র হতে পারেনি: ড. মাহমুদুর রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০১:০৬ পিএম

ভারত এতো চেষ্টা করেও হেজেমনিক রাষ্ট্র হতে পারেনি: ড. মাহমুদুর রহমান

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় একাধিকবার চেষ্টা করেও ভারত কখনোই হেজেমনিক (প্রভুত্ববাদী) রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি। তার মতে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনার সরকার এবং ভুটান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশই ভারতের কর্তৃত্ব মেনে নেয়নি।শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে রোজ একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলায় মুসলমানদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ভারত সেই হেজেমনিক অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ ও ভুটানের ওপর ভারতের কিছুটা প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নিম্নলিখিত কোনো দেশই ভারতের কথায় চলে না:

  • পাকিস্তান: পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ায় ভারত তাকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

  • নেপাল: হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ভারত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থ হয়েছে।

  • শ্রীলঙ্কা: শ্রীলঙ্কায় সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টায় পরাজিত হয়ে ভারত ফিরে এসেছে।

  • মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান: এই দুটি দেশও ভারতের কর্তৃত্ব মানেনি এবং মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় প্রভাব হটিয়ে দিয়েছে স্থানীয়রা।

ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারত বাংলাদেশের ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। একইভাবে ভুটানের ওপরও ভারতের পূর্ণ প্রভাব বিদ্যমান।রাজনৈতিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. মাহমুদুর রহমান বিশ্ব রাজনীতিতে রাষ্ট্রগুলোকে পাঁচ ভাগে শ্রেণিবিন্যাস করেন: যে রাষ্ট্র নিজের শক্তিকে ব্যবহার করে অন্যদের উন্নতিতে সহায়তা করে (যেমন: নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা)।

হেজেমন : যে রাষ্ট্র তার অঞ্চলের অন্য দেশগুলিকে নিজের অধীনে রাখতে চায় (যেমন: ইন্দিরা গান্ধীর আমলের ভারত)।ডমিনেটর : যে রাষ্ট্র নিজের ইচ্ছার বাইরে কেউ গেলেই তাকে ধ্বংস করে দেয় (যেমন: ইসরাইল)। ডিচ পাওয়ার: যে দেশের বৈশ্বিক কোনো বিষয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না (যেমন: ইন্দোনেশিয়া)।৫. পটেনশিয়াল পাওয়ার : যে দেশ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠতে পারে (যেমন: ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা)।

তিনি বলেন, ভারত বারবার চেষ্টা করেও দক্ষিণ এশিয়ার নেতা নয় বরং প্রভুত্ববাদী শক্তি হতে চেয়েছে, কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি। কারণ প্রকৃত নেতা অন্যদের উন্নয়নের অংশীদার করে, প্রভুত্ব কায়েম করে না।ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, রোমান সাম্রাজ্য ও ব্রিটিশ কলোনিয়াল এম্পায়ারের পতনের পর অর্থনৈতিক শোষণের মাধ্যমে জন্ম নেয় ‘নিও-কলোনিয়ালিজম’। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা ইউনিপোলার বিশ্বে বাস করছি, যা মার্কিন নেতৃত্বে চলছে। তবে চীনের উত্থানের ফলে আগামী ৫০ বছরে নতুন এক বহুমেরু (মাল্টিপোলার) বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে।