ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম
দীর্ঘ সতেরো বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশের মাটিতে ফেরার পরদিন নিজের পিতা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেল চারটা চল্লিশ মিনিটের দিকে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়ার মাজারে পৌঁছান।
দীর্ঘ সময় পর বাবার স্মৃতিধন্য এই স্থানে ফিরে আসায় সেখানে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তারেক রহমান বেশ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম কোনো প্রকাশ্য সাংগঠনিক কর্মসূচি।
তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই চন্দ্রিমা উদ্যান ও মাজার এলাকায় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে স্লোগান দেন এবং তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান। ভিড়ের কারণে সেখানে যাতে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ পুরো এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে।বাবার কবর জিয়ারত করার সময় তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাকেও সেখানে দেখা গেছে। তারা সকলে মিলে শহীদ জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। উল্লেখ্য গতকাল দেশে ফিরে পূর্বাচলে বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাঁর অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে।
পিতার সমাধি জিয়ারতের এই কার্যক্রম শেষ করে তারেক রহমান পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে জানা গেছে। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের এমন বিরামহীন কর্মসূচি ও বিপুল জনসমাগম রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন তাঁর এই সক্রিয়তা দলের তৃণমূল পর্যায়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন