ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে বৈপ্লবিক হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৮০-এর দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নেত্রী পরবর্তীকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে নারীদের জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী’ তালিকায় তিনি ২৯তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্থাপিত নারীর ক্ষমতায়নের ভিত্তিকে বেগম খালেদা জিয়া আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক করেন।
১৯৯৪ সালে তিনি ‘ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ চালু করেন, যার মাধ্যমে গ্রামীণ মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে দেশে মেয়েদের ভর্তির হার বৃদ্ধি পায়, বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এবং জন্মহার হ্রাস পায়। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে তিনি ‘ফুড-ফর-এডুকেশন’ এবং ‘প্রাইমারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রোগ্রাম’ চালু করেছিলেন।
নারী সুরক্ষা ও আইনি অধিকারেও বেগম জিয়ার সরকার ছিল কঠোর। তাঁর শাসনামলে ধর্ষণ, অ্যাসিড সন্ত্রাস ও যৌতুকের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে নারী কোটা চালুর ফলে দেশের শিক্ষা খাতে এক নীরব বিপ্লব সম্পন্ন হয়, যা বর্তমান বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন