সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ড. ওসমান ফারুকের সম্পদের পরিমাণ কত, জানা গেল হলফনামায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

ড. ওসমান ফারুকের সম্পদের পরিমাণ কত, জানা গেল হলফনামায়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তাদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের বিস্তারিত চিত্র উঠে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ-৩ বা করিমগঞ্জ-তাড়াইল আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুকের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ পেয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এর মধ্যে নগদ অর্থ হিসেবে তাঁর হাতে রয়েছে ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা এবং তাঁর কাছে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৭ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা গচ্ছিত রয়েছে যা বাংলাদেশি টাকায় বিশাল অঙ্কের সম্পদ।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী ড. ওসমান ফারুকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি বড় অংশ আবাসন ও জমিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় তাঁর তিনটি এবং অভিজাত এলাকা গুলশানে একটি ফ্লাট বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে যেগুলোর মোট অধিগ্রহণকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া নিজ এলাকা করিমগঞ্জের বৈরাটিয়াপাড়ায় তাঁর একটি ভবন রয়েছে যার মূল্য ২০ লাখ টাকা এবং ১০ লাখ টাকা মূল্যের এক একর অকৃষিজমি রয়েছে। দেশের বাইরেও তাঁর সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তাঁর নামে ৫৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর ব্যবহার্য বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেলের মোট মূল্য ২৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৭ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর গয়না রয়েছে।ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে ড. ওসমান ফারুক জানিয়েছেন যে তিনি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক থাকলেও বর্তমানে তিনি দ্বৈত নাগরিক নন। পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তাঁর বা তাঁর স্ত্রী রানা ফারুকের নামে ব্যক্তিগত কোনো ঋণ নেই। তবে আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে যেখানে সম্পদের পরিমাণ ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ শূন্য দেখানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানিয়েছেন যে আগামী ৩ ও ৪ জানুয়ারি এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। উল্লেখ্য ড. ওসমান ফারুক ২০০১ সালে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।