জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে নেতাদের সম্পদের চমকপ্রদ সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হেভিওয়েট নেতাদের বড় একটি অংশ কোটিপতি হলেও অনেকের নিজের নামে কোনো বাড়ি বা জমি নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে লড়ছেন। হলফনামা অনুযায়ী তিনি কোটিপতি।
তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যার সিংহভাগই এফডিআর ও নগদ অর্থ হিসেবে গচ্ছিত। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখানো তারেকের বার্ষিক আয় পৌনে সাত লাখ টাকার মতো, যা আসে ব্যাংক সুদ ও শেয়ার থেকে।
উপহার হিসেবে পাওয়া একটি ভবন থাকলেও তার কোনো আর্থিক মূল্য দেখানো হয়নি। একসময় তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা থাকলেও বর্তমানে তিনি সবকটি থেকে খালাস পেয়েছেন। তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল, চিকিৎসা পেশা থেকে যার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ টাকা।অন্যদিকে বেশ ব্যতিক্রমী হিসাব দিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তার হাতে নগদ প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা থাকলেও নিজের নামে কোনো জমি বা বাড়ি নেই। তবে স্বর্ণালংকারের দিক থেকে তিনি বেশ বিত্তবান। নিজের ৩৫ ভরি এবং স্ত্রীর নামে ১২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। শিক্ষকতা পেশা থেকে তার বছরে আয় প্রায় ২৮ লাখ টাকা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মোট সম্পদ ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং ২১৭ শতক কৃষিজমি। পেশায় চিকিৎসক এই নেতার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অতীতে ৩৪টি মামলা থাকলেও বর্তমানে তিনি আইনি ঝামেলামুক্ত। তবে তার স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই।ঢাকা-১৩ আসনের আরেক আলোচিত প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের হাতে নগদ অর্থ আছে ৮৩ লাখ টাকা। শিক্ষকতা ও পরামর্শক খাত থেকে তার বছরে আয় ১৩ লাখ টাকা।
অকৃষি জমিসহ তার মোট সম্পদ প্রায় ৮২ লাখ টাকা। তবে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৩টি ফৌজদারি মামলা এখনো চলমান রয়েছে।তরুণ নেতাদের মধ্যে পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকা, যার বড় অংশই তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩০ লাখ টাকা এবং বছরে আয় ১৬ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রীর নামে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে মনোনয়ন বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় জানাবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন