জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের বৃহত্তর ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে বড় ধরণের ছাড় দিয়েছে খেলাফত মজলিস। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলটির ৭২ জন যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে স্ব স্ব জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তারা এই প্রত্যাহারপত্র জমা দেন।
তবে জোটের সাথে ১১টি আসনে চূড়ান্ত সমঝোতা হলেও বর্তমানে দলটির ২০ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে বহাল রয়েছেন বলে জানা গেছে। যার মধ্যে ৯টি আসনে জোটের শরিকদের পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন যে বর্তমানে তাদের ২০ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে আছেন। এর মধ্যে ১১টি আসনে ১০ দলীয় জোটের সমঝোতায় তারা একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন পেয়েছেন।
বাকি ৯টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যেখানে জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও লড়াই করবেন। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপিসহ জোটের বাকি ৯ দলের সমর্থনে এবং ইসলামপন্থি শক্তির ঐক্য টিকিয়ে রাখতেই মূলত বেশিরভাগ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমিরের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেই আসনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে দলটি।
দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অনেক আগে থেকেই খেলাফত মজলিস ২৫৮টি সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়ে মাত্র ৭৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থেকে অর্ধশতাধিক প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। অবশিষ্ট প্রার্থীরা এখন ১০ দলীয় ঐক্যের মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে লড়বেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন খেলাফত মজলিসের এই কৌশলগত অবস্থান জোটের অভ্যন্তরে তাদের গুরুত্ব ও ত্যাগের পরিচয় বহন করে। যদিও ৯টি আসনে শরিকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তবে ১১টি আসনে জোটের পূর্ণ সমর্থন তাদের জয়ের সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দেবে। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে দলীয় নেতা-কর্মী এবং জোটের শরিক দলের প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এখন দেখার বিষয় ‘দেওয়াল ঘড়ি’ প্রতীক নিয়ে খেলাফত মজলিস ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কতটা চমক দেখাতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন