রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ (বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি) ঢাকা-১৫ আসনে (মিরপুর-কাফরুল) বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। মিরপুর ১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই দেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না। যদি কেউ আবার ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের পরিণতি পূর্বের স্বৈরাচারীদের মতোই ভয়াবহ হবে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, জামায়াত ভবিষ্যতে আর কোনো ‘ভোট ডাকাত’ দেখতে চায় না এবং প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তাঁর দল বদ্ধপরিকর।

বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী শাসনামলের ‘আয়নাঘর’ ও গুম-খুনের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশে ইনসাফ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছিল বলেই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও অন্যায়ভাবে বন্দি রাখা হয়েছিল। দেশে প্রকৃত ইনসাফ থাকলে আজ হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হতো না। 

মিরপুরের স্থানীয় সমস্যাগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় মানসম্মত সরকারি হাসপাতালের অভাব রয়েছে এবং খালগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নির্বাচিত হলে তিনি মিরপুরকে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নত অবকাঠামোর জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।সমাবেশ থেকে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে, জামায়াত কারও কাছ থেকে কোনো চাঁদা নেবে না এবং চাঁদাবাজিমুক্ত একটি কর্মসংস্থানবান্ধব সমাজ গড়বে।

 

তিনি ১০ দলীয় জোটের ঢাকার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের হাতে জোটের সমন্বিত প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন এবং আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সকল অন্যায়ের জবাব দিতে মুখিয়ে আছে।

একই সমাবেশে উপস্থিত ঢাকা-১১ আসনের জোট প্রার্থী ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। যদি কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নেমে অধিকার আদায় করে নেবে। সমাবেশে ১০ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মিরপুর এলাকায় এই জনসভাকে কেন্দ্র করে দিনভর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।