জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে জোটের শীর্ষ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীকে সামনে রেখে প্রচারণার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থাকলেও ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটে এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট যেখানে তারেক রহমানকে তাদের নেতা হিসেবে চূড়ান্ত করেছে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এখন পর্যন্ত একক কোনো নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয় তবে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। জোটে থাকা দলগুলোর নেতারা বলছেন তারা এখন কোনো নির্দিষ্ট নাম সামনে না এনে ‘যৌথ নেতৃত্বের’ ভিত্তিতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্বাচনের ফলাফলের পরই কেবল শীর্ষ পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই জোটে জামায়াত ছাড়াও রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টি এবং জাগপার মতো দলগুলো।
জোটের আসন বিন্যাসে দেখা যায় ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই ২১৫টি আসনে লড়াই করছে যা জোটের অন্য সব দলের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন যেহেতু জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে সেহেতু তাদের প্রাধান্য থাকা স্বাভাবিক। তবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের মতে নির্বাচন পরবর্তী আসন প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করেই শীর্ষ নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
১০ দলীয় জোটের আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় থাকলেও জোটভুক্ত দলগুলো ‘জুলাই স্পিরিট’ ধারণ এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলছে। তারা আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের মতে এই ঐক্যের মূল ভিত্তি হলো সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই। তবে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর ঘোষণা না থাকা নির্বাচনের মাঠে তাদের কতটা শক্ত অবস্থানে রাখবে তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও সংশয় উভয়ই বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন