জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে তিনটি বিশেষ শর্তে দেশের সকল মানুষকে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন জামায়াত একা দেশ গড়তে চায় না বরং গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চায়। আল্লাহ যদি জোটকে সফলতা দেয় তবে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না বরং সবাইকে নিয়ে মিলেমিশেই দেশ পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও ঘোষণা দেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান যে তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন তার প্রথমটি হলো—কাউকে নিজে দুর্নীতি করা যাবে না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে তিনি বলেন গরিব-দুঃখী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলবে না। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন যেখানে কোনো রায় বিকিকিনি হবে না। তৃতীয় ও সর্বশেষ শর্ত হলো ৫৪ বছরের পুরনো ও ‘বস্তাপচা’ রাজনীতি যা দেশজুড়ে দুঃশাসন ও চাঁদাবাজি ছড়িয়ে দিয়েছে তা পুরোপুরি বর্জন করে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। এই সংস্কারগুলো নিশ্চিত করতেই আসন্ন গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়ার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
উত্তরবঙ্গের অবহেলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন একদল ধুরন্ধর লোক উত্তরাঞ্চলকে ইচ্ছাকৃতভাবে গরিব করে রেখেছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসন না থাকলে এই অঞ্চল অনেক আগেই কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী হতে পারতো। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গ হবে বাংলাদেশের গৌরবের কৃষি রাজধানী যেখানে কৃষক তার হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসলের ন্যায্যমূল্য সরাসরি হাতে পাবে। ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন এর আগে আপনারা অনেককে ভোট দিয়েছেন কিন্তু এবার মুক্তিকামী মানুষের ঠিকানা ১০ দলের প্রতীকে ভোট দিন। জনসভায় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন