জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় এক অভূতপূর্ব ও মানবিক দৃশ্যের অবতারণা করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে ভাষানটেকের নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষণের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের মুখ থেকে সরাসরি তাদের সমস্যার কথা শোনেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বক্তব্য শুরুর আগে তিনি মঞ্চে ডেকে নেন স্থানীয় ভ্যানচালক জুয়েল, গার্মেন্টসকর্মী লিলি, শিক্ষার্থী হেনা ও গৃহিণী শান্তাকে।
তারা কেউ রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং সাধারণ ভোটার হিসেবে নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমানের সামনে।
মঞ্চে উঠে ভ্যানচালক মোহাম্মদ জুয়েল তারেক রহমানকে সরাসরি বলেন যে তিনি ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় থাকলেও এখনো বস্তিতে অমানবিক পরিবেশে বাস করছেন। জুয়েলের দাবি ছিল যদি বিএনপি সরকার গঠন করে তবে যেন এই খেটে খাওয়া বস্তিবাসীদের স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
তারেক রহমান উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে প্রশ্ন করলে সবাই সমস্বরে জুয়েলের দাবির সাথে একমত পোষণ করেন। এরপর গার্মেন্টসকর্মী লিলি বেগম তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে ফ্যামিলি কার্ড এবং শিক্ষিত যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের অনুরোধ করেন। লিলি বলেন তার ছেলে মাস্টার্স পাশ করেও চাকরি পাচ্ছে না, যা এই এলাকার একটি বড় সমস্যা।তারেক রহমান এসময় জনসভায় একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রদর্শন করে উপস্থিত মা-বোনদের আশ্বস্ত করেন।
তিনি জানান যে বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা বা সমপরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সহায়তা পাবেন গৃহিণীরা। এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার ভাষানটেকের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট ও ঘিঞ্জি পরিবেশের উন্নয়নের দাবি জানান যাতে পুরো এলাকাটি ক্যান্টনমেন্টের মতো সুন্দর ও পরিকল্পিত হয়। গৃহিণী শান্তাও ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন এই সামান্য সহায়তা দিয়েও ডাল-চাল কেনার মতো বড় সুবিধা হবে একটি সাধারণ পরিবারের।
সবশেষে তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে উপস্থিত জনতাকে বলেন যে তিনি এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছেন এবং নিজেকে এই মাটির সন্তান হিসেবেই গণ্য করেন। তিনি ওয়াদা করেন যে যদি সাধারণ মানুষ ধানের শীষকে বিজয়ী করে এবং বিএনপি সরকার গঠন করে তবে ভাষানটেকের প্রধান সমস্যা বস্তিবাসী পুনর্বাসনসহ সব ধরণের নাগরিক সংকট দূর করা হবে। তিনি সাধারণ মানুষের এই চাওয়াগুলোকে ইশতেহার হিসেবে গণ্য করে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। নেতাদের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের এই অভাবের কথা মঞ্চ থেকে শোনার বিষয়টি পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন