সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশের প্রত্যেক সেক্টরে নারীরা কাজ করবেন: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

দেশের প্রত্যেক সেক্টরে নারীরা কাজ করবেন: জামায়াত আমির

রাসুলের যুগে যদি নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তবে বর্তমান সময়েও নারীরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাজ করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি রাতে রংপুরের টাউন হল চত্বরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। 

দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে জামায়াত আমির বলেন যে তারা কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা সস্তা জনপ্রিয়তা চান না। তিনি বেকার ভাতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে বেকার ভাতা নয় বরং প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিকের জন্য মর্যাদা সম্পন্ন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। 

বিগত সময়ের দুঃশাসন ও দুর্নীতির কথা টেনে তিনি বলেন যে যারা দেশ উন্নত করার নামে লুটপাট করেছে তারাই বিদেশে বেগম পাড়া তৈরি করেছে। দেশের ব্যাংকগুলো ফাঁকা করে টাকা পাচার করা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে অতীতে যারা জনগণের মালিক হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং মানুষের ওপর জুলুম করেছেন তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।বিচার বিভাগ ও সুশাসন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা হবে। অর্থের বিনিময়ে কোনো রায় হবে না বরং ন্যায্যতা অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে। 

তিনি ৫৪ বছরের বস্তাপঁচা রাজনীতি বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে তারা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান নেই। রংপুরবাসীর প্রশংসা করে তিনি বলেন যে এখানকার মানুষ অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত। কিন্তু অবহেলিত উত্তরবঙ্গের কৃষি ও জীবন বাঁচাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে জামায়াত আমির বড় ঘোষণা দেন। 

তিনি বলেন যে যদি জনগণ তাদের দায়িত্ব দেয় তবে ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রথম কাজ হিসেবে উত্তরবঙ্গের তিস্তাতে কোদালের কোপ দেওয়া হবে অর্থাৎ দ্রুততম সময়ে মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। উত্তরবঙ্গকে কৃষি বিপ্লবের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। রংপুর সফর শেষে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে পীরগঞ্জ যাবেন এবং পরবর্তীতে গাইবান্ধায় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন।