সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে: আসিফ মাহমুদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন ১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে দেশে প্রকৃত সুশাসন নিশ্চিত করা হবে এবং সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন যে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে একটি দল নিজেদের আওয়ামী লীগের ভূমিকায় উপস্থাপন করছে। 

বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের যেই জুলুম আমরা দেখেছি বিপ্লব পরবর্তী সময়েও সেই একই জুলুম ও দুর্নীতির উপাদান একটি বিশেষ দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুশিয়ারি দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন যে বিগত তিনটি প্রহসন নির্বাচনের কমিশনারদের ছাত্র-জনতা যেভাবে প্রতিরোধ করেছে এবং শাস্তি দিয়েছে বর্তমান কমিশনকে তা মনে রাখতে হবে। পুনরায় যদি বাংলাদেশে কোনো প্রহসনের নির্বাচন হয় তবে ছাত্র-জনতা চুপ করে বসে থাকবে না। 

তাই কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নিরপেক্ষ থেকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে নাকি পূর্বসূরীদের মতো লজ্জাজনক পরিণতি ভোগ করবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে ঢাকা-১০ আসনের সচেতন জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজ নেতৃত্ব মেনে নেবে না বরং পরিবর্তনের লক্ষে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন যে চব্বিশের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের অবসান হয়েছে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। 

এই রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তিনি সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান। জসীম উদ্দীন সরকার অভিযোগ করেন যে কোনো কোনো দল এখন নানা কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে মানুষকে ভাতা নয় বরং কর্মসংস্থান দেবে। জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্বাসী যাতে তারা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।

ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকায় বিদ্যমান সমস্যা যেমন চাঁদাবাজি দখলবাজি ও কিশোর গ্যাং কালচার নির্মূলে জসীম উদ্দীন সরকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় নাগরিক কমিটি গঠন করে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শহীদ মোবারক হোসেনের পিতা রমজান আলী ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আসন্ন নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই দিনে ঢাকা-৫ আসনেও জোটের পক্ষে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।