জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর সুনিপুণ ও জনবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। পেশাদার রাজনীতিবিদ না হয়েও এলাকার সন্তান হিসেবে ঢাকা-৯ এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নাগরিক বঞ্চনা দূর করতে তিনি `ফুটবল` প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
ডা. তাসনিম জারা তাঁর ইশতেহারে স্পষ্ট করেছেন যে, ঢাকা-৯ এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত ট্যাক্স ও বিল দিলেও প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি একে ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে ভোটারদের সামনে ছয়টি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
গ্যাস ও সেবা বিল: তাসনিম জারা অঙ্গীকার করেছেন, সংসদে তাঁর প্রথম কাজ হবে "No Service, No Bill" (সেবা না দিলে বিল নেই) আইন প্রস্তাব করা। তিতাস যদি গ্যাস দিতে না পারে, তবে গ্রাহক কোনো বিল দেবে না। পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকিতে এলপিজি সিলিন্ডার নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব: একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি মুগদা হাসপাতালকে একটি আন্তর্জাতিক মানের আদর্শ সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সারা বছর মশা নিধনে `স্থায়ী টাস্কফোর্স` এবং নারী স্বাস্থ্য নিশ্চিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মায়েদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার কথা বলেছেন।
নিরাপত্তা ও মাদক: এলাকার মাদক সিন্ডিকেট নির্মূল করে সিসি ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্টের মাধ্যমে ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরির ঘোষণা দেন তিনি। নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত ব্যবস্থাও তাঁর ইশতেহারের অন্যতম অংশ।
শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম: তাসনিম জারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর এলাকায় কোনো ‘এমপি কোটা’ থাকবে না। মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে ভর্তির একমাত্র মাপকাঠি। স্কুলগুলোতে আধুনিক কোডিং ল্যাব ও এআই (AI) শিক্ষা চালুর মাধ্যমে তরুণদের বিশ্ববাজারের জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাঁর রয়েছে।
অর্থনীতি ও মায়েদের মুক্তি: নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য `স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯` ফান্ড এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে সরকারি খরচে `ডে-কেয়ার সেন্টার` চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জবাবদিহিতা: তিনি নির্বাচিত হওয়ার এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় চালু করবেন এবং একটি `ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড` তৈরি করবেন, যেখানে নাগরিকরা তাদের অভিযোগের অবস্থা সরাসরি ট্র্যাক করতে পারবেন।
তাসনিম জারা তাঁর ইশতেহারকে কেবল `ফাঁকা বুলি` নয় বরং জনগণের সাথে একটি `চুক্তি` হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এবার একজন ডাক্তারকে সুযোগ দিন, যে জানে রোগ কোথায় আর ওষুধ কোনটা।" জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তিনি একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ঢাকা-৯ গড়ার লক্ষ্যে ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন