জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
ফেনীর দীর্ঘদিনের দুঃখ ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ানো বাঁধ নির্মাণ নিয়ে বড় ধরণের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। আমিরে জামায়াত বলেন যে ফেনীর মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় বাঁধটি এখনো নির্মাণ করা হয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে আল্লাহ যদি তাদের সুযোগ দেন তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে শ্রদ্ধা বজায় রেখে এবং ফলপ্রসূ সংলাপের মাধ্যমেই এই সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো একক দলের নয় বরং বাংলাদেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন বলে তিনি অভিহিত করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান গত বছরের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন যে সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে এক সময় গোটা ফেনী জেলা তলিয়ে গিয়েছিল।
সেই সময় তিনি নিজেও কোমর সমান পানির মধ্য দিয়ে ফেনীর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এই নদী ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বুয়েট ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে ফেনী নদী নিয়ে ন্যায্য কথা বলার কারণেই আবরারকে জীবন দিতে হয়েছিল। আবরার ফাহাদের সেই আত্মত্যাগকে সম্মানের সাথে ফেনীবাসীর হৃদয়ে জায়গা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত আমির মনে করেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং পানিবণ্টন নিয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ডা. শফিকুর রহমান ফেনীতে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। জনসভায় তিনি ফেনী-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের হাতে দাঁড়িয়ে পাল্লা এবং ফেনী-২ আসনে জহিরুল ইসলামের হাতে ঈগল প্রতীক তুলে দেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির প্রথম ভোটটি হবে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট।
তার মতে এই ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই আজাদী বা মুক্তি। জামায়াত এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে একজন সাধারণ মানুষের সন্তানও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসতে পারে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে তিনি বলেন যে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই এ দেশের সমান নাগরিক এবং নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন